লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নে জমি মাপজোক করে সীমানায় পিলার স্থাপন এবং বাগান থেকে নারিকেল ও সুপারি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা কামাল হোসেন ওরফে মিস্টারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির মালিকানা দাবি করে লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতে মামলা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল খায়ের।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁদের অনুপস্থিতিতে লোকজন নিয়ে জমি মাপজোক করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে মারধরের চেষ্টা ও হুমকি দেওয়া হয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) আবুল খায়েরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
আবুল খায়ের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর দাখিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তাঁর পরিবারের দাবি, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৩ নম্বর দালাল বাজার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলমদর পাটওয়ারী বাড়িতে তাঁদের ক্রয়কৃত ও ওয়ারিশি সম্পত্তি রয়েছে। স্বাধীনতার আগে থেকেই তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন আবুল খায়ের।
আবুল খায়েরের ছেলে শামীম বলেন, তিনি ও তাঁর ভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে মিস্টার হাওলাদার স্হানীয় যুবদল নেতা কামাল হোসেন ওরফে মিস্টারের নেতৃত্বে বাহিরাগত লোকজন নিয়ে তাঁদের বাগানে প্রবেশ করেন। এ সময় জমির সীমানায় পিলার স্থাপন করা হয়। বাগান থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের পাঁচ বস্তা নারিকেল ও সুপারি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাদার নয়জন ওয়ারিশের মধ্যে তাঁরা একটি পক্ষ। এ ছাড়া আরও চার-পাঁচটি পক্ষ রয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
শামীম বলেন, ‘মিস্টার হাওলাদার যদি এই সম্পত্তির মালিকানা পেয়ে থাকেন, তাহলে আইনগতভাবে অন্য ওয়ারিশদের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। আদালতের মাধ্যমে আসুন। আদালত তাঁর পক্ষে রায় দিলে আমরা জমি ছেড়ে দিতে রাজি আছি।
জমির রেকর্ড সম্পর্কে শামীমের দাবি, আরএস রেকর্ডে পাঁচজনের নাম রয়েছে। তাঁদের একজনের নামে ৪৭ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত। ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর আট ছেলে-মেয়ে ওয়ারিশ হন। বর্তমানে ওই জমিতে ১৪ থেকে ১৬ জনের মালিকানা বা ওয়ারিশি স্বত্ব রয়েছে বলে দাবি তাঁদের পরিবারের।
জমি মাপজোক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শামীম। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের না জানিয়ে সার্ভেয়ার ফারুক জমিটি মাপজোক করেছেন। এলাকার চৌকিদার ও ওই সার্ভেয়ারের মাধ্যমে অন্য পক্ষকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কার আবেদনের ভিত্তিতে এবং কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জমি মাপজোক করা হয়েছে, তা জানতে চান তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কামাল হোসেন ওরফে মিস্টার ও মিস্টার হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৩ নম্বর দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁদের সম্পত্তি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার বসা হয়েছে। সব অংশীদারের সম্পত্তি পরিমাপ করা হয়েছে। আবুল খায়েরের অংশে অতিরিক্ত সম্পত্তি পাওয়া গেছে। তাঁরা তা দিতে রাজি হন না।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply