নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মারামারির অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে মাদ্রাসাশিক্ষক মাওলানা আবুল কাশেম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। তবে মামলার তৃতীয় সাক্ষী বাবুল মাঝি বলেছেন, ঘটনার দিন তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। সেদিন সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, আসামিদের দাবি, মামলায় উল্লেখ করা ৫ অক্টোবর তাঁদের বাড়িতে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলাটি করেন শারমিন আক্তার রিমা। এতে মাওলানা আবুল কাশেম, তাঁর ছেলে আব্দুল আহাদ (২৩), ভাই জাকির হোসেন, ভাতিজা তামিম (২০) ও কাউসার, ভাইয়ের স্ত্রী রেহানা, মেয়ে হাবিবা (২৩) এবং মোখলেস বেপারীর মেয়ে ছামিয়াকে (১৯) আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামি মাওলানা আবুল কাশেম বলেন, ৫ অক্টোবর তাঁদের বাড়িতে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। মামলায় উল্লেখ করা সময়ে তিনি স্থানীয় নাইয়া বাড়ি জামে মসজিদে ছিলেন। তাঁর ছেলে আব্দুল আহাদ ছিলেন রায়পুর শহরের নতুন বাজার এলাকায় তাঁদের ভাড়া বাসায়। বাবুল মাঝি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এর আগেও তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার আরেক আসামি জাকির হোসেন বলেন, মামলায় উল্লেখ করা তারিখে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। চিকিৎসার জন্য মাইজদী সরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
জাকির হোসেনের স্ত্রী রেহানা বলেন, ৫ অক্টোবর তাঁর স্বামী অসুস্থ থাকায় তিনি ও তাঁর ছেলে তামিম তাঁকে দেখতে মাইজদী সরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
সাক্ষীর বক্তব্যে প্রশ্ন
মামলার তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা বাবুল মাঝির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মামলার বিষয়ে কিছু সত্যি না হলে কি আর মামলা হয়?” তবে ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, সেদিন তিনি সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন।
মামলার বাদী শারমিন আক্তার রিমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও এজাহারে উল্লেখ করা তাঁর মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল আউয়াল রাছেল বলেন, তাঁর মক্কেলদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সময় তাঁরা ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং ৫ অক্টোবর কোনো মারামারির ঘটনাও ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাঁর মক্কেলরা আদালতে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করবেন।
তবে মামলার বাদীপক্ষের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। মামলাটির তদন্ত বা আদালতের পরবর্তী অগ্রগতির তথ্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
দেশ যুগান্তর / আরজে