রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: বৃষ্টিতে ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত। জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হতো লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের অসহায় নাজু আক্তারকে। সামর্থ্যের অভাবে নতুন ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করতে পারছিলেন না তিনি। তাঁর এমন দুরবস্থার কথা জানতে পেরে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রবাসী ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হোসেন। নাজু আক্তারের ঘর নির্মাণের জন্য তিনি এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া অর্থে (১৮ জুলাই'২০২৪) মঙ্গলবার নতুন টিনের ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুর উপজেলার ৭নং বামনী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাজু আক্তার দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছিলেন। ঘরের চাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির সময় ভেতরে পানি পড়ত। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হতো তাঁর। ঘরটির বেহাল দশার কারণে প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাঁকে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
নাজু আক্তারের ঘরের এমন অবস্থার কথা জানতে পেরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি প্রার্থী লিটন বিষয়টি প্রবাসী ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হোসেনকে জানান। অসহায় এই নারীর দুর্ভোগের কথা শুনে ঘর নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেন ফরহাদ। পরে তিনি এক লাখ টাকা পাঠান। সেই অর্থে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী কিনে ঘর তৈরির কাজ শুরু করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ঘর নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা নাজু আক্তারের নিরাপদ আশ্রয়ের প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে।
রায়পুরের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি প্রার্থী লিটন বলেন, ‘নাজু আক্তারের ঘরের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। বৃষ্টির সময় ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত। নাজু কান্নাকাটি করে বিষয়টি আমাকে জানানোর পর আমি প্রবাসী ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হোসেনকে অবহিত করি। তিনি ঘর নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা পাঠান। এরপর আমরা বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন মিলে বাজার থেকে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী কিনে মিস্ত্রি দিয়ে ঘর তৈরির কাজ শুরু করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন অসহায় মানুষের থাকার ঘরটি ঠিক করে দেওয়া তাঁর জন্য বড় সহায়তা। আমরা স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা করে কাজটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করি খুব দ্রুত কাজ শেষ হবে।’
নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করে ফরহাদের জন্য দোয়া করে নাজু আক্তার বলেন, ‘আমার ঘরের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। বৃষ্টির সময় অনেক কষ্ট হতো। ঘরটি ঠিক করার মতো সামর্থ্য আমার ছিল না। ফরহাদ ভাই আমাকে নতুন ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে আমি অনেক খুশি। আমি তাঁর জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাঁকে প্রবাসে ভালো রাখেন।’
স্থানীয়দের মতে, অসচ্ছল মানুষের বাসস্থানের সমস্যা সমাধানে এ ধরনের ব্যক্তিগত উদ্যোগ তাঁদের দুর্ভোগ কমাতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে আর্থিক সংকটের কারণে যাঁরা ঘর মেরামত করতে পারেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
প্রবাসে থেকেও এলাকার অসহায় মানুষের সমস্যার কথা জেনে ফরহাদ হোসেনের এই আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। নাজু আক্তারের জন্য নির্মিত ঘরটি তাঁর বসবাসের কষ্ট কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।